Home >> Humayun Ahmed >> উপন্যাস pdf download >> (240+) Humayun Ahmed All books Pdf Download || হুমায়ুন আহমেদের সকল বই free download

Thursday, March 26, 2020

(240+) Humayun Ahmed All books Pdf Download || হুমায়ুন আহমেদের সকল বই free download

হুমায়ুন আহমেদের বই পড়বেন, কিন্তু তার সম্পর্কে কিছুই জানবেন না, তা কি হয়! তাহলে জেনে নিই তার সম্পর্কে জানা-অজানা সকল কিছু।

এজন্য ৫টা মিনিট সময় নিয়ে পোস্টটি পড়ুন। তাহলে হুমায়ুন আহমেদ সম্পর্কে overall একটা ধারণা পেয়ে যাবেন। তাছাড়া, জানতে পারবেন- তার কোন কোন বই কোন প্রেক্ষাপটে রচিত, আপনার জন্য কোনটা আগে পড়া উচিৎ, কোন বই কোন ক্যাটাগরিতে পড়েছে। 

Humayun Ahmed books list bangla Pdf download


গল্প-উপন্যাসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী কারিগর হুমায়ূন আহমেদ, তার লেখা সকল বই ও উপন্যাস পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করুন আমাদের ওয়েবসাইট থেকে। কেননা এ পোস্টে একসাথে তার লেখা সব বই ক্যাটাগরি অনুসারে দেওয়া আছে। তাছাড়া, ক্যাটাগরি অনুসারে ক্লিক করেই হুমায়ূন আহমেদ বই সমগ্র রিভিউ পড়ে পড়ে ডাউনলোড করার সুবিধা তো আছেই!

হুমায়ূন আহমেদের বইসংখ্যা

অনেকেই হুমায়ূন আহমেদ স্যারের সকল বই এর লিস্ট চেয়েছেন তাই তাদের জন্য এই পোস্টটি।

Humayun Ahmed স্যারের মোট বই সংখ্যা ২৪২ টি।কিন্তু বিভিন্ন ব্লগ বা পেজে এই তালিকাটা ঠিক দেয়া নেই।সেখানে মৌলিক বা একক বইগুলোর পাশাপাশি সমগ্র বা সংকলন গুলো এড করা আছে।যার ফলে সংখ্যাটা কোথাও বেশি আবার কোথাও কম হতে দেখা যায়। তালিকাটি নির্ভুল ভাবে করা হয়েছে।কিন্তু নিখুঁত বলব না।কেননা পৃথিবীর কোনো কিছুই নিখুঁত নয়।তবে ভরসা রাখতে পারেন কিছুটা। আমি এখানে ২৩৭ টা বইয়ের Pdf Book Download link দিতে পারবো। আপনি আপনার পছন্দের বইয়ের নামটির উপর ক্লিক করুন, তাহলে রিভিউ+ডাউনলোড লিংক পেয়ে যাবেন।কোনো সমস্যা হলে এ পোস্টে/আমাদের ফেচবুক পেজে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

হুমায়ূন আহমেদ এর সকল বইয়ের নাম

হুমায়ূন আহমেদ এর মোট উপন্যাস সংখ্যা ১১০টি। যথা-
1. তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে
2. অপেক্ষা
3.  পেন্সিলে আকা পরী
4. বৃষ্টি বিলাস
5. তেতুল বনে জোছনা
6. নীল অপরাজিতা
7. নবনী
8. .কৃষ্ণপক্ষ
9. আশাবরি
10. আয়নাঘর
11. আকাশ জোড়া মেঘ
12. আমার আছে জল
13. আজ চিত্রার বিয়ে
14. আগুনের পরশমণি
15. আমাদের শাদা বাড়ি
16. আমরা কেউ বাসায় নেই
17. আজ আমি কোথাও যাবোনা
18. আসমানিরা তিন বোন
19. আমি এবং কয়েকটি প্রজাপতি
20. ইস্টিশন
21. উড়ালপঙ্খী
22. এই বসন্তে
23. এইসব দিনরাত্রি
24. একজন মায়াবতী
25. এই মেঘ রৌদ্রছায়া
26. একা একা
27. এপিটাফ
28. একটি সাইকেল ও কয়েকটি ডাহুক
29. অনিল বাগচির একদিন
30. কিছুক্ষণ
31. কুটুমিয়া
32. কবি
33. কোথাও কেউ নেই
34. কে কথা কয়
35. কুহুরানী
36. কালো জাদুকর
37. গৌরীপুর জংশন
38. চৈত্রের দ্বিতীয় দিবস
39. চক্ষে আমার তৃষ্ণা
40. চাঁদের আলোয় কয়েকজন যুবক
41. ছেলেটা
42. ছায়াবীথি
43. জলপদ্ম
44. জনম জনম
45. জল জোছনা
46. জয়জয়ন্তী
47. জোছনা ও জননীর গল্প
48. জীবনকৃষ্ণ মেমোরিয়াল হাইস্কুল
49. তোমাকে
50. অন্যদিন
51. তিথির নীল তোয়ালে
52. অচিনপুর
53. দিনশেষে
54. দিঘির জলে কার ছায়া গো
55. দুই দুয়ারী
56. দূরে কোথাও
57. দ্বৈরথ
58. দেয়াল
59. দাঁড়কাকের সংসার কিংবা মাঝেমাঝে তব দেখা পাই
60. নন্দিত নরকে
61. নক্ষত্রের রাত
62. নির্বাসন
63. অন্ধকারের গান
64. নীল মানুষ
65. অপরাহ্ন
66. নলিনী বাবু bsc
67. নি
68. প্রিয়তমেষু
69. প্রথম প্রহর
70. পাখি আমার একলা পাখি
71. পারুল ও তিনটি কুকুর
72. অরণ্য
73. পোকা
74. ফেরা
75. বাসর
76. বহুব্রীহি
77. অমানুষ
78. বৃষ্টি ও মেঘমালা
79. বাদশাহ নামদার
80. বাদলা দিনে দ্বিতীয় কদমফুল
81. মৃন্ময়ী
82. মেঘ বলেছে যাবো যাবো
83. মাতাল হাওয়া
84. মেঘের উপর বাড়ি
85. মৃন্ময়ীর মন ভালো নেই
86. মধ্যাহ্ন
87. মন্দ্রসপ্তক
88. মিরার গ্রামের বাড়ি
89. ম্যাজিক মুন্সি
90. যদিও সন্ধ্যা
91. যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাদ
92. রূপার পালঙ্ক
93. রজনী
94. রূপা
95. রূমালী
96. রোদন ভরা এই বসন্ত
97. লীলাবতী
98. লিলুয়া বাতাস
99. শ্যামল ছায়া
100. শঙ্খনীল কারাগার
101. শ্রাবণ মেঘের দিন
102. সৌরভ
103. সাজঘর
104. সে ও নর্তকী
105. সেদিন চৈত্রমাস
106. সবাই গেছে বনে
107. সমুদ্র বিলাস
108. সম্রাট
109. সানাউল্লাহর মহাবিপদ
110. ১৯৭১

হুমায়ূন আহমেদ এর শুভ্র সিরিজের মোট বইয়ের সংখ্যা ৬টি। যথা-
1. মেঘের ছায়া
2. দারুচিনি দ্বীপ
3. রূপালি দ্বীপ
4. শুভ্র
5. এই শুভ্র এই
6. শুভ্র গেছে বনে

হুমায়ূন আহমেদ এর হিমু সিরিজের মোট বইয়ের সংখ্যা ২৩টি। যথা-
1. ময়ূরাক্ষী
2. দরজার ওপাশে
3. হিমু
4. পারাপার
5. এবং হিমু
6. হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম
7. হিমুর দ্বিতীয় প্রহর
8. হিমুর রূপালী রাত্রি
9. একজন হিমু ও কয়েকটি ঝিঝি পোকা
10. তোমাদের এই নগরে
11. চলে যায় বসন্তের দিন
12. সে আসে ধীরে
13. হিমু মামা
14. আঙ্গুল কাটা জগলু
15. হলুদ হিমু কালো র্যাব
16. আজ হিমুর বিয়ে
17. হিমু রিমান্ডে
18. হিমুর মধ্যদুপুর
19. হিমুর বাবার কথামালা
20. হিমুর নীল জোছনা
21. হিমুর আছে জল
22. হিমু এবং কয়েকটি রাশিয়ান পরি
23. হিমু এবং হার্ভাড P.H.D বল্টু ভাই
২৪। হিমুর একান্ত সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য
২৫। ময়ূরাক্ষীর তীরে

হুমায়ূন আহমেদ এর মিসির আলি সিরিজের মোট বইয়ের সংখ্যা ২০টি। যথা-
1. দেবী
2. নিশিথিনী
3. নিষাদ
4. অন্যভুবন
5. বৃহন্নলা
6. ভয়
7. বিপদ
8. অনীশ
9. মিসির আলির অমিমাংসিত রহস্য
10. আমি এবং আমরা
11. তন্দ্রা বিলাস
12. আমিই মিসির আলি
13. বাঘবন্দি মিসির আলি
14. কহেন কবি কালিদাস
15. হরতন ইশকাপন
16. মিসির আলির চশমা
17. মিসির আলি আপনি কোথায়
18. মিসির আলি unsolved
19. পুফি
20. যখন নামিবে আধার

হুমায়ূন আহমেদ এর আত্মজীবনী মুলক মোট বইয়ের সংখ্যা ২৩টি। যথা-
1. হোটেল গ্রেভারইন
2. এলেবেলে
3. আমার ছেলেবেলা
4. মে ফ্লাওয়ার
5. অনন্ত অন্বরে
6. আমার আপন আধার
7. এই আমি
8. যশোহা বৃক্ষের দেশে
9. সকল কাটা ধন্য করে
10. ছবি বানানোর গল্প
11. কিছু শৈশব
12. দেখা না দেখা
13. বলপয়েন্ট
14. কাঠপেন্সিল
15. ফাউন্টেনপেন
16. রংপেন্সিল
17. পায়ের তলায় খড়ম
18. রাবনের দেশে আমি ও আমরা
19. নিউইয়র্কের নীল আকাশে ঝকঝকে রোদ
20. বসন্ত বিলাপ
21. হিজিবিজি
22. লীলাবতীর মৃত্যু
23. একাত্তর এবং আমার বাবা

হুমায়ূন আহমেদ এর শিশুতোষ মোট বইয়ের সংখ্যা ২৬টি। যথা-
1. একি কান্ড
2. কানী ডাইনি
3. কাক ও কাঠগোলাপ
4. চেরাগের দৈত্য এবং বাবলু
5. ছোটদের সেরা গল্প
6. তোমাদের জন্য রূপকথা
7. নীলহাতি
8. নুহাশ ও আলাদিনের চেরাগ
9. পুতুল
10. পিপলী বেগম
11. পরীর মেয়ে মেঘবতী
12. বোকাভূ
13. বোতল ভূত
14. বোকা রাজার সিংহাসন
15. ব্যাং কন্যা এলেং
16. ভূত মন্ত্র
17. ভূত আমার পুত
18. ভয়ংকর ভূতুড়ে
19. ভূত ভূতং ভূতৌ
20. মীর খাইয়ের অটোগ্রাফ
21. মজার ভূত
22. রাক্ষস খোক্কস এবং ভোক্কস
23. সূর্যের দিন
24. টগর এন্ড জেরী
25. হলুদ পরী
26. বনের রাজা

হুমায়ূন আহমেদ এর সায়েন্স ফিকশন বইয়ের সংখ্যা ১১টি। যথা-
1. অনন্ত নক্ষত্রবীথি
2. ইরিনা
3. ইমা
4. ওমেগা পয়েন্ট
5. কুহক
6. তারা তিনজন
7. দ্বিতীয় মানব
8. ফিহা সমীকরণ
9. মানবী
10. তোমাদের জন্য ভালোবাসা
11. শূন্য

হুমায়ূন আহমেদ এর গল্পগ্রন্থ মোট ১৫ টি। যথা-
1. অয়োময়
2. অঁহক
3. অদ্ভুত সব গল্প
4. আনন্দ বেদনার কাব্য
5. আজ দুপুরে তোমার নিমন্ত্রণ
6. আমার প্রিয় ভৌতিক গল্প
7. উদ্ভট গল্প
8. ছায়াসঙ্গী
9. জলকন্যা
10. তিনি ও সে
11. নিশিকাব্য
12. নির্বাচিত ভূতের গল্প
13. প্রেমের গল্প
14. শীত ও অন্যান্য গল্প
15. হিমুর একান্ত সাক্ষাতকার ও অন্যান্য

হুমায়ূন আহমেদ এর লিখা মোট নাটক এর সংখ্যা ০৪টি। যথা-
1. নৃপতি
2. মহাপুরুষ
3. মঞ্চ নাটক ১৯৭১
4. স্বপ্ন ও অন্যান্য

হুমায়ূন আহমেদ এর অন্যান্য বই ০৪টি-
1. বৃক্ষকথা
2. কোয়ান্টাম রসায়ন (পাঠ্য)
3. গৃহত্যাগী জোছনা (কাব্য)
4. দি এক্সরসিস্ট (অনুবাদ)

এছাড়াও আরও ৪০ টি গল্পের বই রয়েছে।

যাই হোক, কোনো বই মিসিং হলে আমাদের পেজে কমেন্ট করে জানাবেন। হিমুকে ভালবাসলে এটি আপনার অবশ্যই করনীয়। কেননা, এ লিস্টে কোনো কিছু মিসিং হলে ভবিষ্যৎ হিমু অনুরাগীরা অনেক কিছুই মিস করবে।

Humayun Ahmed Best Books:

  • মেঘ বলেছে যাবো যাবো
  • জোছনা ও জননীর গল্প 
  • অপেক্ষা
  • নন্দিত নরকে
  • এইসব দিনরাত্রি
  • দেবী
  • মধ্যাহ্ন
  • দেয়াল
  • দিঘির জলে কার ছায়া গো
  • বাদশাহ নমদার
  • শঙ্খনীল কারাগার
  • আগুনের পরশমনি
  • বাদশাহ নামদার
  • দারুচিনি দ্বীপ
  • হিমু সিরিজ
  • মিসির আলি সিরিজ
লেখক হুমায়ূনের প্রত্যেকটি বই-ই সেরা বই।
যাই হোক, একটা গ্রুপের পাঠকদের রিভিউ এর ভিত্তিতে বলা যায় যে, হুমায়ূন আহমেদ বই লিস্ট এর মধ্যে উপরের বইগুলো হচ্ছে সেরা বই।

humayun ahmed biography in bangla [লেখক পরিচিতি]

  • নামঃ হুমায়ূন আহমেদ
  • জন্মঃ ১৩ নভেম্বর ১৯৪৮
  • মৃত্যুঃ ১৯ জুলাই ২০১২
  • জন্মস্থানঃ  ময়মনসিংহ
  • ছোটবেলায় তার নাম ছিল: শামসুর রহমান
  • ডাকনাম ছিল: কাজল
  • চট্টগ্রামে থাকাকালীন নাম ছিল: বাচ্চু

পাঠগ্রহণ/পড়াশোনা:

  • প্রাইমারি স্কুল: কিশোরী মোহন (বালক) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়(
  • হাইস্কুল: বগুড়া জিলা স্কুল
  • আবাসিক ছাত্র: হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল
  • উচ্চ মাধ্যমিক: ঢাকা কলেজ (বিজ্ঞান বিভাগ)
  • স্নাতক:  বিশ্ববিদ্যালয়ে (রসায়ন)
  • স্নাতকোত্তর/উচ্চশিক্ষা: নর্থ ডাকোটা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে (পলিমার রসায়ন)

কর্মস্থান:

  • প্রভাষক, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে (কর্মজীবন শুরু)
  • অধ্যাপক, রসায়ন বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  • পিএইচডি: পলিমার রসায়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি

পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড:

  • পিতাঃ শহীদ ফয়জুর রহমান আহমদ(পুলিশ কর্মকর্তা)
  • মাতাঃ আয়েশা ফয়েজ
  • তার পিতার লিখা গ্রন্থ: দ্বীপ নেভা যার ঘরে
  • তার মাতার লিখা আত্বজীবনীঃ জীবন যে রকম।
  • ছোট ভাইঃ মুহম্মদ জাফর ইকবাল (শিক্ষাবিদ এবং কথাসাহিত্যিক)
  • সবচেয়ে ছোট ভাইঃ আহসান হাবীব (রম্য সাহিত্যিক এবং কার্টুনিস্ট)
  • ১ম স্ত্রী: গুলতেকিন খান
  • বড় ছেলে: নুহাশ হুমায়ুন
  • আরেক ছেলে: রাশেদ হুমায়ূন(অকাল মৃত্যু)
  • বড় মেয়ে: নোভা আহমেদ,
  • মেজো মেয়ে: শীলা আহমেদ
  • ছোট মেয়ে: বিপাশা আহমেদ
  • ২য় স্ত্রী: শাওন

সম্মাননা ও পুরষ্কার:

  • বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১ সাল)
  • একুশে পদকে (১৯৯৪ সাল) (দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা)

ঔপন্যাসিক সূচনাঃ

  • ১ম উপন্যাস: নন্দিন নরকে(১৯৭২ সাল)
  • ১ম বিজ্ঞান কল্পকাহিনী: তোমাদের জন্য ভালোবাসা
  • ১ম ছোটগল্প: সৌরভ
  • ১ম চলচ্চিত্র: আগুনের পরশমণি(১৯৯৪ সাল)[বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধভিত্তিক]
  • টেলিভিশনে ১ম কাজ: প্রথম প্রহর (নাটক)
  • ১ম টেলিভিশন ধারাবাহিক:  বহুব্রীহি

হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাস মানেই অন্যরকম ভাল লাগা। বাংলাদেশের ঔপন্যাসিকদের মধ্যে সবার প্রথম পছন্দের ব্যক্তি হচ্ছেন তিনি। so, হুমায়ুন আহমেদের বই pdf এখান থেকেই পড়ুন।

এছাড়াও, উইকিপিডিয়া নথি পড়ে হুমায়ুন আহমেদ সম্পর্কে জানতে পারবেন।


Humayun Ahmed pdf



Free Bangla Book Pdf Humayun Ahmed

একজন তরুণ লেখক,খুব ভাল লিখেন। তার বইটি প্রমোট করা হল:

গল্প: বেনামি_চিঠি !
লিখেছেন: ফাতিমা ইসলাম

(পর্ব- 01)
চারদিকে শন শন করে বাতাস বহিতেছে । বরফে ঢেকে গেছে চারপাশ। আমি ঘরের ভিতর চুপটি করিয়া  বসে আছি । হঠাৎ .......
___ঠক' ঠক' ঠক!!
___ কে ওখানে? কি চাই?? (আমি)
___ ডাক বিভাগ থেকে এসেছি । আপনার জন্য চিঠি
      আছে ।
___ আমার জন্য চিঠি!! ( খুবই বিস্মিত হলাম)-(আমি)

আসতে আসতে দরজা খুলে ডাকপিওনের হাত থেকে চিঠিটা নিলাম । কি আশ্চর্য!! কোনো নাম নেই চিঠির উপর। একে তো আমার জন্য কেউ চিঠি পাঠিয়েছে সেটা ভেবেই বিস্মিত হচ্ছি । তার উপর বেনামি চিঠি ।
হুম ইন্টারেস্টিং ! ভেরি ইন্টারেস্টিং ব্যাপার ।।

আমি "আদ্রিশা" ! জীবন থেকে অতিষ্ঠ হয়ে এই বরফে ঢাকা পাহাড়ি অঞ্চলে এসে থাকছি কয়েক দিন হলো।
আমার একুল-ওকুল-দু'কুলে কেউ নাই । মা জন্ম দিয়েই দুনিয়া ছেড়েছে । বাবার মৃত্যুর ও প্রায় বছর পাঁচেক হয়েছে ।আপন বলতে কেউ নাই ।আশেপাশেও তেমন কেউ নেই । একাকিত্বের স্বাদ  পাইয়াছি । তাই একা থাকতেই ভালোবাসি । আসল কথা তা নয় । আসল কথা হচ্ছে অভিনয়ের শহর থেকে নিজেকে আড়াল করে নিয়েছি আর কি ।  আমি এখানে একটা স্কুলে পড়াই । যা আমার বাড়ি থেকে পাঁচ  কিলোমিটার দূরে ।
আমার ব্যাপারে কি আর বলিব । আমার অস্তিত্বের
সবটুকু এই ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ে গেছে । আবার ও নতুন করে বাঁচার লড়াই ! তবে বলতেই পারো নিজের সাথে লড়াই করে ক'দিনই বা বাঁচা যায় ।।
ভাবতে ভাবতে হারিয়ে গেলাম ......

হুমায়ূন আহমেদ pdf free download

হঠাৎ চিঠিটার উপর চোখ পড়তেই ভাবলাম চিঠিটা পড়েই দেখি । কি লেখা আছে আর কে লিখেছে । "কে লিখেছে"___ কথাটি ভাবতেই আবার হারিয়ে গেলাম সেই ইউনিভার্সিটি লাইফে । চিঠিটা দেখে আজ খুব বেশি মনে পড়ছে তাকে যাকে ভোলার তাগিদে নিজেকেই ভুলে রয়েছি আমি। কত চিঠি লিখতাম তাকে সব আজ স্মৃতি হয়ে ঘৃণার বরফে চাপা পড়ে গেছে ।
চিঠিটা সযত্নে খুললাম । কিন্তু কিছু লেখা নেই । শুধু লেখা ...." Hey Adrisha...Do you know that...
Someone waiting for you? ".....

What?? এটা কোনো চিঠি হলো ।
 আর এই Someone টা কে?? কে এমন আছে যে আমার জন্য অপেক্ষা করছে । নিশ্চয়ই কেউ মজা করছে ।  আমার জানা মতে এমন কেউ নেই যে আমার জন্য জন্য অপেক্ষা করে থাকবে ।

চিঠির আগা-গোড়া না পাইয়া স্কুলের কিছু ফাইল রেডি করার ছিল তাই করতে বসেছি ।
সপ্তাহ খানেক কেটে গেল। আবার এক কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ডাকপিওনের আগমন । আর একটা চিঠি ।

____আবার চিঠি!! আপনিও কিছু ভালোভাবেই চেক
        করেছেন এই চিঠি আমার ঠিকানায় পাঠানো হয়
        কি না ।
____ হ্যাঁ , মা । ঠিকানা তো এটাই । বিশ্বাস না হলে এই
        দেখো।( সে আমায় খাতাটা দেখালো)
____ হুম ! ঠিকানা তো এটাই । ওকে দিন।
        ( আমি চিঠিখানা নিয়ে ভেতরে গেলাম)

আশ্চর্য! আজও তেমন কিছু লেখা নাই । শুধু লেখা ...
......"তুমি কি করে আমাকে ভুলে আছো বলোতো ।মনে কি পড়ে না আমায় । কত চিঠি পাঠিয়েছি । তবে উত্তর কেন দেও না।" .....

হুমায়ুন আহমেদের রোমান্টিক উপন্যাস
আমি তো চিঠি হাতে হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছি ।
বলে কি চিঠি পেলাম দুই টা । আর বলে নাকি অনেক চিঠি পাঠিয়েছে।
এই চিন্তায় সারা দিন কাটলো । একবার ভাবলাম না এই ব্যাপার নিয়ে আর মাথা ঘামাবো না । কিন্তু বিকেল বেলা
হঠাৎ আবার কেউ এসে ডাক দিল। নিশ্চয়ই ডাক বিভাগের লোক হবে । কিন্তু না । কুরিয়ার সার্ভিসের লোক । কেউ একজন নাকি এই ঠিকানায় পার্সেল পাঠিয়েছে । পার্সেলটা রাখলাম । খুলে দেখবো ভাবছি ।আবার ভয় ও করছে ।কি না কি আছে এর মধ্যে কে জানে । ভয়ে ভয়ে খুললাম । খুলে দেখলাম তার ভিতরে একটা শঙ্খের মালা । আর একটা চিঠি ।

চিঠিতে লেখা ....." প্রেয়সী, তোমার না শঙ্খের মালা খুব পছন্দ ? তাই পাঠালাম । খুবই সামান্য উপহার । কিন্তু জানি এটা পেয়ে তুমি খুব খুশি হবে ঠিক সেই দিনের মতো । এবার তো অভিমান ছাড়ো প্লিজ । আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে " ।
.....
এবার তো সহ্যের সীমা পার হয়ে গেল । আমি কি স্বপ্ন দেখছি ! এসব কি নিছক স্বপ্ন ! নাকি সত্যি! আমি সব জেনেই ছাড়বো । কে এই লোক ? আর এই চিঠি কার জন্য লিখেছে সে ? কার অপেক্ষায় সে ? আমি নিশ্চিত অন্য কাউকে লিখেছে সে চিঠি । কিন্তু কে সে? কোন আদ্রিশা'কে লিখেছে চিঠি সে?
এ সব প্রশ্নের উত্তর না জানা অবধি শান্তির ঘুম আসবে না ।
.....

সারা রাত ভাবার পর সকাল বেলা আমি
ডাক অফিসে গেলাম । ডাকপিওনের কাছে খবর নিয়ে জানলাম সে ও মাস খানেক আগে এখানে এসেছে । এই উড়ো চিঠির ব্যাপারে আর কোনো কিছু জানতে পারলাম না । তবে ওই পুরানো ডাকপিওন থাকলে কিছু জানতে পারতাম বললো ওই ডাক বিভাগের এক লোক
অতঃপর পুরানো ডাকপিওনের ঠিকানা নিয়ে আমি প্রস্থান করলাম । সেই ডাকপিওন 'সিমলা' চলে গেছে !
স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটির আবেদন করলাম ।
ছুটি পেতে দু'দিনের মতো লাগবে ।

আজ ছুটির দিন । ঘর পরিষ্কার করতে লাগলাম । এখানে অনেক আগে কোনো এক পরিবার থাকতো । আমি বাড়িটা এক এজেন্সির মাধ্যমে কিনে নিয়েছি ।
বাড়ি বেশ বড় । আসার পর সময় হয় নি তাই সব গুলো কামরা পরিষ্কার করা হয় নি । ছুটি পেলে "সিমলা" যাবো তাই আজ সব পরিষ্কার করছি । পরিষ্কার করতে করতে প্রায় সব পরিষ্কার করা শেষ । কিন্তু একদম কোণার  কামরায় তালা লাগানো । চাবিটাও পেলাম না। অবশেষে তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকলাম । মনে হচ্ছে কয়েক বছরে এই কামরায় কেউ পা ও রাখে নি । কামরায় ঢুকতেই একটা পেইন্টিং-এর উপর আমার নজর আটকে গেল কি অপরূপ সৌন্দর্য পেইন্টিং-এর মেয়েটির । পরিষ্কার করতে করতে হঠাৎ ডেক্সের  নিচে চোখ পরলো । কিছু একটা আছে ভেবে হাত দিলাম । একটা ছোট্ট বক্স পেলাম ।
কৌতূহলী হয়ে খুললাম বক্সটা । কিছু চিঠি খুব পুরানো ।
সাথে পুড়ানো একটা ডায়েরি । বক্সের গায়ে খোদাই করে লেখা "আদ্রিশা-আমান" ।
এই তবে শেই আদ্রিশা । কিন্তু "আমান" কে ??  ওই পেইন্টিং-এর মেয়েটিই কি আদ্রিশা??
ভাবনার অতল গহ্বরে হারিয়ে যেতে লাগলাম ।
না ! আগে আমার ডায়েরিটা এবং চিঠিগুলো পড়া উচিত । হয়তো "আদ্রিশা-আমান" এদের ব্যাপারেকিছু জানতে পারবো । আমি প্রথমে ডায়েরিটা পড়া শুরু করলাম ।
প্রথম পাতায় লেখা ছিলো ___"অব্যক্ত কিছু কথা"

Humayun Ahmed books list bangla Pdf download

এ পোস্টটি হতে যাচ্ছে লেখক হুমায়ূন আহমেদ এর লেখা সকল বই তালিকা + ডাউনলোড লিংক নিয়ে ইন্টারনেটের সবচেয়ে সুন্দর কালেকশন। humayun ahmed Pdf all book list দেখে নিন এবং ক্যাটাগরি অনুসারে ডাউনলোড করতে বইয়ের নামের উপর ক্লিক করুন।


গল্প: বেনামি চিঠি ।
পর্ব:02
লেখিকা:[email protected]ফাতিমা ইসলাম ।

"অব্যক্ত কিছু কথা"_____
হুম ভেরি ইন্টারেস্টিং । নিজেকে গোয়েন্দা ব্যোমকেশ বকশি মনে হচ্ছে ।
আমার বাবা একজন "Detective inspector" ছিলেন ।
আমার ও বড় ইচ্ছে ছিলো Detective হওয়ার । কিন্তু বাবার মৃত্যুর জন্য আর হয়ে ওঠে নি । মৃত্যুটা যে কোনো সাধারণ মৃত্যু ছিল না । থাক এই প্রসঙ্গে নাই বা গেলাম ।
_
ডায়েরির দ্বিতীয় পাতা থেকে পড়া শুরু করলাম । ডায়েরিটা  মনে হয় ছয় কি সাত বছরের পুরনো । ধুলো জমে আছে । এই ধুলোয় হয় তো কারো স্মৃতি দম আটকে দিনে দিনে মৃত্যু পথে পতিত হচ্ছে । যাই হোক  আমি পড়া শুরু করলাম ............
লেখা গুলো এমন ছিলো.............

humayun ahmed best romantic books

"এটা ১৯৯৭  এর ঘটনা । আমি আদ্রিশা । পড়াশোনার জন্য বাবা আমাকে কলকাতা মামার বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন । কলকাতা প্রসিডেন্সি কলেজে এডমিশন মিললো।  প্রথম কয়েক মাস ভালোই কাটলো। কলেজের সবাই আমায় নিয়ে সমালোচনা করতো, কারণ আমি সব সময়  চুপ চাপ এবং নিজের খেয়ালে ডুবে থাকতাম আমার তাতে কি!! যার যা ভাবার ভাবুক তো । হঠাৎ কলেজ এ একদিন একটা ছেলে এলো । সে মোটেও আত্মমগ্ন আর চুপ চাপ নয় । হাসিখুশি থাকতেই সে পছন্দ করে । সবার মাঝে  খুশি বিলিয়ে সে অপার সুখ পায় । সবাই জানে হাসির অপর নাম "আমান" !!
( আমান!!! এই কি সেই ব্যক্তি ? যে চিঠি পাঠায় ।     দ্বিতীয় পাতা এখানেই শেষ)

.....আবার ডায়েরি পড়া শুরু করলাম তৃতীয় পাতা থেকে ।


""১৪ ই জানুয়ারী,১৯৯৭ ! এই দিন প্রথম আমান এসে আমার সাথে কথা বলে! সে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করল ....." আদ্রিশা! কেন তুমি সব সময় চুপ চাপ থাকো? কখনো কারো সাথে কথা বলো না । হাসতেও দেখিনি কখনো! কেন?? সবার সাথে মিশলে তবেই তো মন ভালো থাকবে ।" আমি কোনো উত্তর খুঁজে পেলাম না তাঁর প্রশ্নের। তাই  "এমনি" বলে এড়িয়ে আসতে চাইলাম । তখন সে আমাকে জিজ্ঞেস করল ...
____"আচ্ছা আমরা কি বন্ধু হতে পারি "--(আমান)
____ হুম ! হওয়া যায় ।--(আদ্রিশা)
____ তো ম্যাডাম! আজ থেকে আপনাকে হাসানোর
         দায়িত্ব আমার । --(আমান)
____ ওকে!!!....(আদ্রিশা)
তারপর আমি বাসায় ফিরে আসলাম । হুম আমানের কথা ভাবতেই অবাক লাগছে। আমার মুখে হাসি ফোটানোর দায়িত্ব নিয়েছে সে!!"".
( তৃতীয় পাতার সমাপ্তি এখানেই)....

বেলা সাড়ে বারোটা বাজে। ডায়েরিটা রেখে ফ্রেশ হয়ে লাঞ্চ করে নিলাম ।...
বিকেল সাড়ে তিনটা নাগাদ খবর পেলাম ছুটির আবেদন মঞ্জুর হয়েছে । তো সব গুছিয়ে মঙ্গলবা সকালে সিমলার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার মনস্থির করলাম । আমাকে জানতেই হবে চিঠি গুলো কোথা থেকে আসে । বর্তমানে আমান কোথায় থাকে।

শুয়ে শুয়ে আবার ডায়েরি টা পড়া শুরু করলাম ...
"চতুর্থ পাতা"_
আজ ১৯ জানুয়ারি,১৯৯৭ __
কলেজ থেকে সবাই মিলে ট্যুরে যাবে " সিমলা"
আমার যাওয়ার কোনো ইন্টারেস্ট নেই । আমান এসে আমাকে অনেক বুঝালো । অবশেষে রাজি হলাম । বাবাকেও অনেক কষ্টে রাজি করালাম ।
২১ জানুয়ারী, ১৯৯৭ । সিমলার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম সবাই । বরাবরই আমার বরফে ঢাকা পাহাড়ি অঞ্চলে ভালো লাগতো । অনেক মজা করলাম সবাই মিলে ।
২২ জানুয়ারী , ১৯৯৭ বিকাল বেলা টিমের সবাই যার যার নিজের মতো ঘুরছে ।  পাহাড়ের পাদদেশের দু'এক খানা ঘর দেখা যাচ্ছে । আমরা দুজন তাই দেখতে বের হলাম । ঘুরতে ঘুরতে অনেক দুর চলে আসলাম । ক্যাম্পাস সেখান থেকে অনেক দুর । খুব জোরালোভাবে
দখিনা হাওয়া বইছে। ঠান্ডায় জমে যাওয়ার উপক্রম । পা সামনে চলছে না আর । হঠাৎ নজরে ছোট একখানা ঘর পড়লো। আমরা সেখানে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নিলাম । গিয়ে দরজায় নক করতেই মধ্যবয়সী এক লোক দরজা খুললো । তাকে পরিস্থিতি জানালে সে আমাদের ঘরের ভেতর নিয়ে গেল ।
লোকটি একজন ডাকপিওন । সিলেটের এক ডাক বিভাগে  দশ বছর ধরে কাজ করছে সে।
বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি ।  পরিবারের সদস্যরা সবাই  সিমলা থাকে , ছুটিতে সে সিমলা এসেছে । পরিবারের সদস্য সংখ্যা চারজন । এক ছেলে ও এক মেয়ে । লোকটি অতন্ত বিনয়ী ! নাম তার ____"জাফর আলম" । তার স্ত্রী আমিনা এবং ছেলে অন্তিম, মেয়ে অনিশা । আমিনা আমাদের জন্য রাতের খাবারের আয়োজন করলো । খাবার শেষে প্রায় অর্ধেক রাত গল্প করে কাটালাম।  সকাল হতেই বিদায় নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে আসলাম । ২৪ জানুয়ারী,  ১৯৯৭ কলকাতায়  ফিরে আসলাম ।
( চতুর্থ ও পঞ্চম পাতা শেষ হলো)

......
.........
মনে প্রশ্ন জাগলো.. এই কি সেই ডাকপিওন । যাকে খুঁজতে আমি সিমলা যাব ভাবছি । আমি ঝটপট করে
নম্বর টুকে নিলাম এবং নতুন ডাকপিওনকে কল করলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম পুরানো ডাকপিওনের নামটা কি ছিল?? সে বলল __ "জাফর আলম" ।
আমি কল কেটে দিলাম । এবং ভাবতে লাগলাম এরা সবাই কোনো না কোনো ভাবে একে অপরের সাথে যুক্ত

ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম টেরটি ও পাই নি । ঘুমের ঘোরে বাবার মৃত্যুর দৃশ্যটা চোখের সামনে ভেসে উঠতেই ঘুম ভেঙ্গে গেল ।
ফ্রেশ হয়ে আবার ডায়েরি টা পড়া শুরু করলাম।

দু'চার পেজ কিছু লেখা নেই । তার পর লেখা ...

দিন দিন  আমার আর আমানের বন্ধুত্ব গভীর হতে লাগল । সত্যিই আমান' আমার হাসির কারণ হতে লাগল ।।
এভাবেই দিন যেতে লাগল ___
১৩ ফেব্রুয়ারি,১৯৯৭ ! ভালোবাসা' দিবস উপলক্ষে বন্ধুরা সবাই মিলে পার্টির আয়োজন করছে । আমান আমাকে নিয়ে গেল । বারোটা বাজলেই সেলিব্রেট করা হবে । বারোটা বাজতেই পার্টি শুরু। কেক কাটা,  নাচ-গানে সবাই মত্ত হয়ে আছে । আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল । তাই আমি দুরে গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
ওই দিন আমান আমাকে প্রোপোজ করলো । আমি ও আমানকে ভালোবাসতাম মনে মনে ।কিন্তু ও নিজে থেকে ভালোবাসার কথা না বললে আমি হয়তো কখনোই বলতে পারতাম না । এখান থেকেই এই কাহিনী শুরু হলো । ভালোবাসার গল্পটা ভাবিনি কোনো দিন ধ্বংস লীলায় পতিত হবে ।

মানে কি? আদ্রিশা কোন ধ্বংসলীলার কথা বলছে ।
কি এমন হয়েছিল?? ||

 পরের পাতায় লেখা ছিলো .......
হঠাৎ করে বাবার শরীর খারাপ হয় তাই আমি চলে আসি বাড়ি । আমরা সিলেটেই থাকতাম । সেখানে চলে আসাতে আমানের সাথে আমার পাঁচ দিনের মতো যোগাযোগ বন্ধ । অতঃপর আমান আমার খবর নিতে মামা বাড়ি গেলো । আমার মামা মানুষ মোটেও সুবিধের নয় । কলকাতার বনেদি পরিবার। মামা পরিবারের সবার ভাগ্যদেবতা। তার দাপটে কেউ টু-টা শব্দ টুকুও করতে পারে না । কিন্তু আমান তাকেই আমাদের সম্পর্কের কথা বলে দিলো । আমানের একটা ভুল আমার জীবনকে  নরকে পরিণত করলো।।

মামা সবটা বাবাকে বলে দিল । আমার বাবা বরাবরই ভালো মানুষ । কিন্তু মামা মন গড়া পাঁচমিশালি কথায় সে আমার প্রতি কঠোর হতে লাগল । আমি বাবার একমাত্র সন্তান । বাবা দাদার একমাত্র সন্তান হওয়ায় নবাবগেঞ্জর দিগন্ত বিস্তৃত জমিদারি আমার বাবাই পেয়েছিলেন । আর তার পরবর্তী উত্তরাধিকারী আমি । কিন্তু পরে তো সব আমায় যে বিয়ে করবে তার হবে। তাই এই ব্যাপারে মামা ও বাবা পুরো সতর্ক থাকতে । আমান আমাদের মতো কোনো বনেদি পরিবারের ছেলে নয় । আমান আপাতত বেকার । আর তার বাবা একজন সরকারি কর্মকর্তা । কলকাতায় তাদের একটা ছোট বাড়ি আছে । এই তো মধ্যবিত্ত পরিবার আর কি । মামা তাই মানতে পারলো না এমন ছেলের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক থাকুক ।
সে বাবার কান ভাঙাতে শুরু করলো আমার বিরুদ্ধে ।
আমি গৃহবন্দি হয়ে দিন কাটাচ্ছিলাম । আমান আমার প্রতীক্ষায়।
হঠাৎ একদিন লেটার বক্স চেক করে দেখি একখানা চিঠি । আমানের চিঠি । আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো খুশি হয়েছিলাম আমি । ভাগ্যিস কেউ দেখেনি।  আমি চিঠি টা পড়লাম লুকিয়ে ।
........

চিঠি!! কোন চিঠি এটা ? চিঠির ব্যাপারে আদ্রিশা কিছু লিখলো না কেন? আমি চিঠি গুলোর মধ্যে খুঁজতে লাগলাম । অবশেষে খুঁজে পেলাম চিঠি টা । যার উপর লেখাই ছিল আমানের প্রথম চিঠি ||
...................
চিঠিতে লেখা ছিলো ....

আদ্রিশা তুমি কবে ফিরবে । তোমার জন্য আমি অপেক্ষা করছি । তুমি কি জানো!! তোমার মামা আমকে বলেছে আমি যেন তোমার সাথে কোনো সম্পর্ক না রাখি । সে আরো বলেছে তুমি নাকি আমার সাথে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাও ? কেন? কি দোষ করেছি আমি বলো?? আমি জানি তুমি এমন কথা কখনো বলতে পারো না। প্লিজ । তাড়াতাড়ি চলে আসো।
.................
চিঠি পড়া শেষ করে ডায়েরি টা পড়া শুরু করলাম ।

লেখা ছিলো ___
এর পর এখানের পরিস্থিতি জানিয়ে আমি আমানকে চিঠি লিখলাম । মাঝে মধ্যেই আমান আমাকে চিঠি লিখতো । আমি ও উত্তরে চিঠি লিখে পাঠাতাম । ।
তবে এই দুরত্ব আমাদের দু'জনের জন্যই অসহনীয় হয়ে উঠলো । এ দিকে গৃহবন্দিনির জীবন দম বন্ধ হয়ে আসছিল । অবশেষে আমি পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং সে মতে আমানকে চিঠি লিখলাম ।
কিন্তু আমানের তরফ থেকে আমি আর কোনো চিঠি পেলাম না । হয়তো আমার চিঠি ওর কাছে পৌছায় নি বা ওর চিঠি আমার লেটার বক্সে আসেই নি।।
ডাকপিওন জাফরের সাথে অনেক যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি কিন্তু কিছুতেই হয়ে ওঠে নি ।। দিনে দিনে জীবনের প্রতি অতিষ্ঠ হয়ে উঠছিলাম ।

তার মানে আদ্রিশা আর আমানের চিঠি তখনো ওই ডাক পিওন আদান-প্রদান করতো !! এই জাফর আলমই সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে
আমি কিচেনে গিয়ে এক কাপ কফি বানিয়ে নিলাম ।
কফি খেতে খেতে আমার এই অতল রহস্যে
ডুবে গেলাম।
.......
পরের পাতায় একখানা পুরানো ছবি ছিলো । একটা তেইশ-চব্বিশ বছরের যুবকের ছবি। সুদর্শন বটে ।
আমি যদি খুব ভুল না করি তবে এ আমান'ই হবে।
যাক ভালোই হলো আমানকে খুঁজতে এবার সুবিধা হবে

তার পরের পাতা উল্টালাম.....
পরের পাতায় লেখা ছিলো.....

প্রায় ছয় মাস কেটে গেল চিঠির উত্তর পেলাম না । তবুও অপেক্ষা করছিলাম । জানি না আমান কেমন আছে?
আর হয়তো কোনো দিন দেখা হবে না । বাবা কি করে এতো কঠোর হতে পারলো । কি হবে জমিদারি দিয়ে যদি আমিই না থাকি ।
একদিন হঠাৎ করে মামা আসলো কলকাতা থেকে আমার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে । তাঁর বিলেত ফেরত ছেলে মাহিদের জন্য । বাবা ও মাহিদকে খুব পছন্দ করে ।
বাবা রাজি এক পায়ে । কিন্তু আমার বুঝতে বাকি নেই
আমার সম্পর্কে তার কেন এত সমস্যা হচ্ছিল । বাবার
জমিদার আমার মাধ্যমে তারা হাতাতে চায় । তার সম্পত্তিতে মায়ের যে অংশ আছে তাও । কি প্ল্যানিং !
মামা তুমি জিনিয়াস । আমার সারা শরীর রাগে জ্বলে
যাচ্ছিলো । আমার মায়ের মৃত্যুর পর বাবা-মামা দু'জন মিলেই কলকাতার জমিদারি সামলায়। মা কলকাতা থেকে ফেরার পথে কার অ্যাক্সিডন্টে মারা যায় যখন আমার বয়স মাত্র নয় বছর । সেই কেসের ইনভেস্টিগেশন এখন ও চলছে। নানার সম্পত্তি সমান দু'ভাগে ভাগ করে দিয়ে গেছেন সে মৃত্যুর আগে ।
সব কিছু এক সাথে কর আয়ত্তে আনার প্ল্যানিং চলছে
আমি বাবাকে বুঝালাম । কিন্তু বাবা অন্ধের মতো বিশ্বাস করে মামাকে । মামার মিষ্টি কথায় যে কেউ ভুলে যাবে সব কিছু ____ "যাকে বলে মুখে মধু অন্তরে বিষ"।

 হুম । বুঝলাম সম্পত্তির মামলা । সম্পত্তি সম্পর্কে মাঝে দেয়াল তুলে দিয়েছে । এমন কিছু মনে হয় আমি শুনেছি কোথাও । হতে পারে ।এসব তো কমন ব্যাপার।
আবার পড়া শুরু করলাম ......

অনেক দিন কেটে গেল । মাহিদ ইতালি গিয়েছে কোনো বিশেষ কাজে । ফিরলেই তার সাথে আমার বিয়ে । আমানের কোনো খোঁজ নেই । না সেই ডাকপিওনের ।
বাবার কলকাতা গিয়েছে জমিজমা সংক্রান্ত কাজে।
হঠাৎ করে একদিন এক লোক আসলো । পরিচয়ে সে বললো সে একজন ডিটিকটিভ । নবাবগঞ্জ বাড়ি তার ।
মায়ের মৃত্যুর  ইনভেস্টিগেশনের দায়িত্বে তিনি রয়েছেন নাম তার 'আসলাম সর্দার'।

 কি  ?? ডিটেকটিভ আসলাম সর্দার । মানে ? বাবার
এই গল্পের সাথে কি লেনাদেনা । এক সেকেন্ড!!
বাবার মৃত্যুর সাথে এই সব কিছু জড়িত নয় তো??
ভাবতে লাগলাম । আমাকে শীঘ্রই আমানকে খুঁজতে হবে । তার জন্য ওই ডাকপিওনের সাথে দেখা করা খুব জরুরী !
 বাবার মৃত্যুর রহস্য নিশ্চয়ই এই ধাঁধার সমাধান।

(ভুল হলে ক্ষমা করবেন, প্লিজ)
______(চলবে)
বাকি পার্ট পেতে কমেন্ট করে জানান। তাহলে দেওয়া হবে।

humayun ahmed all books pdf or humayun ahmed books read online:

4. Science Fiction (23 Books)
5. Autobiography (09 Books)
6. Children and Teenegers (07 Books)
7. Horror (07 Books)
8. Travel 

হুমায়ুন আহমেদের প্রত্যেক ক্যাটাগরির বইয়ের আলাদাভাবে রিভিউ+ডাউনলোড পেতে চাইলে উপরের লিস্টে ক্লিক করুন।

1 Comments so far

ফাতিমা ইসলামের এই গল্পের বাকি অংশ পেতে চাই।


EmoticonEmoticon