Home >> Bangla Pdf >> Bangladesh history book PDF >> অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমান Pdf Download

Saturday, December 12, 2020

অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমান Pdf Download


বইয়ের নাম: অসমাপ্ত আত্মজীবনী
লেখকের নাম: শেখ মুজিবুর রহমান
ফরম্যাট: Pdf(পিডিএফ)
ক্যাটাগরি/বইয়ের ধরণ: আত্মজীবনীমুলক বই
প্রথম প্রকাশ:  ১৮ই জুন, ২০১২ সাল
মোট পেজ সংখ্যা: ৩৩০ পৃষ্ঠা
প্রকাশনী: ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড
পার্সোনাল রেটিং: ৯/১০

অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমান Pdf Download


শেখ মুজিবুর রহমান এর অসমাপ্ত আত্মজীবনী সারমর্ম/সারাংশ/সারসংক্ষেপঃ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬-১৯৬৯ সালে জেল বন্দী জীবন কাটানোর সময় বইটি লেখেন।

স্মৃতিচারনমূলক আত্মজীবনীটি ১৯৩৮ সাল হতে শুরু করে ১৯৫৫ পর্যন্ত  ও তৎপরবর্তী সময়কালের ঘটনা প্রবাহ নিয়ে রচিত।


পাঠকের সুবিধার্থে আত্মজীবনী লেখার প্রেক্ষাপট হিসেবে বইটির শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যেসব ঘটনা বর্ণনা করা হয়:

  • লেখকের গ্রামের বাড়িশৈশব, স্কুল ও কলেজের শিক্ষাজীবন
  • জন্মবৃত্তান্ত,
  • বংশ পরিচয় ও
  • তরুন কালের কিছু ঘটনা

আত্মজীবনী অংশে লেখকের কারাজীবন, পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও সর্বোপরি সর্বংসহা সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেসার কথা, যিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনে সহায়ক শক্তি হিসেবে সকল দুঃসময়ে অবিচল পাশে ছিলেন— এ সবই খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।


পাশাপাশি যেসব ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়েছে-

  • সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, 
  • দুর্ভিক্ষ,
  • বিহার ও কলকাতার দাঙ্গা,
  • দেশভাগ,
  • কলকাতাকেন্দ্রিক প্রাদেশিক মুসলিম ছাত্রলীগ ও মুসলিম লীগের রাজনীতি,
  • দেশ বিভাগের পরবর্তী সময় থেকে ১৯৫৪ সাল অবধি পূর্ব বাংলার রাজনীতি,
  • কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক মুসলিম লীগ সরকারের অপশাসন, ভাষা আন্দোলন,
  • ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা,
  • যুক্তফ্রন্ট গঠন ও নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন,
  • আদমজীর দাঙ্গা,
  • পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের বৈষম্যমূলক শাসন ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের বিস্তৃত বিবরণ

এভাবে সব মিলিয়ে লেখকের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বিস্তৃত বর্ণনা রয়েছে। একইসঙ্গে লেখকের চীন, ভারত ও পশ্চিম পাকিস্তান ভ্রমণের বর্ণনাও বইটিকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে।


অসমাপ্ত আত্মজীবনী বই রিভিউ(depth review) :

যারা গল্প উপন্যাস ছাড়া অন্য কোন বই তেমন পড়েন না, তারা গন্ডির বাইরে গিয়ে হলেও অসমাপ্ত আত্মজীবনী pdf বইটি একবার পড়ে দেখতে পারেন। জ্ঞান পিপাসা মেটানোর জন্য খুবই চমৎকার একটি বই।


প্রথম কিছু পৃষ্ঠা একটু বোরিং লাগলেও আস্তে আস্তে বইটির মধ্যে এমন ভাবে আটকে যাবেন তখন সব সময় যেনো মনে বঙ্গবন্ধুর সাথে থেকে রাজনীতি দেখছেন। বইটি না পড়লে বুজতাম পারবেন না যে, রাজনীতিতে মানুষ এত ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। আমারও ধারনা ছিল রাজনীতি টাকা দিয়ে হয়, কিন্তু এই বইটি পড়ে বুজতে পেরেছি মানুষের ভালোবাসা কাকে বলে।


বইটিতে বঙ্গবন্ধুর ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত লিখা আছে।যত শেষের দিকে যাচ্ছে তত মনে হচ্ছে যেহেতু বইটি অসমাপ্ত সেহেতু বইটি শেষ হবে না। বই শেষে মনে হচ্ছে আমি বঙ্গবন্ধুর সাথে থেকে বইটি লিখে শেষ করতে পারতে ভালো হত। যানি যে বাংলাদেশ  যুদ্ধে জয়লাভ করেছে তারপরেও মনে হচ্ছে যে বইটিটে সব ঘটনা লিখে রেখে গেলো ভালো লাগতো।
বইটির অনেক স্থানে আমার চোখে পানি চলে আসছে। দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য নিজের পরিবারকে ছেড়ে থাকা কতটা কষ্টের তা আপনার না পড়লে বুজবেন না। সবাইকে বলবো একবার বইটি পড়তে। ইনশাল্লাহ বইটি সবার ভালো লাগবে।

ছাত্রজীবন থেকেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান এর নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের ভাগ্য পরবর্তনে নিরলসভাবে কাজ করে আসছেন।
প্রতিদিন ই এই দেশের ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্যের জন্য কোনো কোনো প্রতিবাদ, সংগ্ৰামে লিপ্ত ছিলেন।


অসমাপ্ত আত্মজীবনী, দুর্ভিক্ষ ও বর্তমান করোনা পরিস্থিতিঃ

ছাত্রজীবন থেকেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান এর নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের ভাগ্য পরবর্তনে নিরলসভাবে কাজ করে আসছেন।
প্রতিদিন ই এই দেশের ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্যের জন্য কোনো কোনো প্রতিবাদ, সংগ্ৰামে লিপ্ত ছিলেন।


"১৯৪৩ সালে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ আরম্ভ হয়েছে। লক্ষ লক্ষ লোক মারা যাচ্ছে। গ্রাম থেকে লাখ লাখ লোক শহরের দিকে ছুটছে স্ত্রী-পুত্রের হাত ধরে।  খাবার নাই, কাপড় নাই। ইংরেজ যুদ্ধের জন্য সমস্ত নৌকা বাজেয়াপ্ত করে নিয়েছে। ধান, চাল সৈন্যদের খাওয়াবার জন্য গুদাম জব্দ করেছে।  যা কিছু ছিল ব্যবসায়ীরা গুদামজাত করেছে। ফলে এক ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা দশ টাকা মণের চাউল চল্লিশ-পঞ্চাশ টাকায় বিক্রি করছে। এমন দিন নাই রাস্তায় লোকে মরে পড়ে থাকতে দেখা যায় না। 


সেই বাংলাদেশের এই দুরবস্থা চোখে দেখেছি যে, মা মরে পড়ে আছে,  ছোট বাচ্ছা সেই মরা মার দু্ধ চাটছে। কুকুর ও মানুষ একসাথে ডাস্টবিন থেকে কিছু খাবার জন্য কাড়াকাড়ি করেছে। ছেলেমেয়েদের রাস্তায় ফেলে দিয়ে মা কোথায় পালিয়ে গেছে। পেটের দায়ে নিজের ছেলেমেয়েকে বিক্রি করতে চেষ্টা করছে। কেউ কিনতেও রাজি হয় নাই। বাড়ির দুয়ারে এসে চিৎকার করছে, 'মা বাঁচাও, কিছু খেতে দাও, মরে তো গেলাম, আর পারি না, একটু ফেন দাও।' এই কথা বলতে বলতে ঐ বাড়ির দুয়ারের কাছেই পড়ে মরে গেছে।" বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার লেখা 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী'তে  এভাবেই ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের হাহাকার তুলে ধরেন। এই দুর্ভিক্ষের না খেয়ে থাকা মানুষের খারাপ অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর যে হৃদয় যন্ত্রনায় হাহাকার করতো তা 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী'তেই প্রকাশ পায়। 

"হোস্টেলের যা বাঁচে দুপুরে ও রাতে বুভুক্ষুদের বসিয়ে ভাগ করে দেই"। এভাবে খাবার দেওয়ার পরেও বঙ্গবন্ধু বলেছেন, 'কিন্তু কি হবে এতে?' 

যাতে করে মানুষ আর অনাহারে না থাকে, অনাহারে ধুকে ধুকে না মরে তার জন্য বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স করেন নেতাদের কাছ থেকে সাহায্য পেতে। বঙ্গবন্ধু মানুষের এ অনাহারের চিত্র দেখে তাঁর বাবার ধানের গোলার কোন কেঁটে দেন।  সেই কোন দিয়ে পরা ধান বস্তায় বস্তায় অনাহারী মানুষকে দেন তিনি।

সত্যিই 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' পড়ে আমার পাঠক হৃদয়ে যেন এক অনন্য হাহাকারের সৃষ্টি করেছে। বইটি পড়ার সময় কেন যানি মনে হয়েছে, বইটি আমার তৃষ্ণা আবার কিছুক্ষন পরেই মনে হয়েছে বইটি আমার তৃষ্ণার জল। বার বার পাঠক মন কেঁদে উঠেছে, অসমাপ্ত যদি সমাপ্ত হত তাহলে হয়তো হাহাকারের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলা যেত।

১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের যে চিত্র 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী'তে বঙ্গবন্ধু  তুলে ধরেছেন যা বর্তমান করোনা ভাইরাসের মত দুঃসময়ের প্রতিচ্ছবিও। বুভুক্ষাদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর যে দরদি হৃদয়, মানুষের মুখে দু মুঠো ভাত তুলে দেওয়ার আপ্রাণ যে ত্যাগ, সবকিছুর অম্লীনতা যেন 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী'র পাঠককে দূরে থেকে কাছে টেনে নেবে।  


গরিব শিক্ষার্থীদের পাশে সবসময় তিনি থাকতেন। যারা খেলাধুলায় পারদর্শী ছিল তাদের ফ্রি বেতনে পড়াশুনা করার সুযোগ করে দিতেন।


বইটিতে থেকে জানা যায়, শেখ মুজিব বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনাকে আদর করে হাচু(হাসু) বলে ডাকতেন। 


রাজনৈতিক নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য:

  • উনি ফুটবল খেলতেন,
  • ছোট থেকেই রাজনৈতিক ব্যাপারে আগ্রহ ছিল,
  • কোথাও অন্যায় দেখলেই তার প্রতিবাদ করতেন,
  • খুব ছোট বয়সেই তার বিয়ে হয়
  • তোষামোদি করতে মোটেও পছন্দ করতেন না, পছন্দ করতেন না আপোষ করতেও

শেখ লুৎফর রহমান ও মা বেগম সায়রা খাতুনের সঙ্গে এক দুর্লভ মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটি এখন পর্যন্ত ১৪টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।


অসমাপ্ত আত্মজীবনী উক্তি সমুহ

একজন মানুষ হিসাবে সমগ্র মানবজাতি নিয়েই আমি ভাবি। একজন বাঙালি হিসাবে যা কিছু বাঙালিদের সঙ্গে সম্পর্কিত তাই আমাকে গভীর ভাবে ভাবায়। এই নিরন্তর সম্পৃক্তির উৎস ভালোবাসা, অক্ষয় ভালোবাসা, যে ভালোবাসা আমার রাজনীতি এবং অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে - শেখ মুজিবুর রহমান

অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইয়ের ২০০ নং পৃষ্ঠায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন:

"মানুষকে ব্যবহার ভালোবাসা ও প্রীতি দিয়ে জয় করা যায় অত্যাচার, জুলুম ও ঘৃণা দিয়ে জয় করা যায় না।"

৮৭ পৃষ্ঠায় বলেন- 

“যে ছেলেমেয়েরা তাদের বাবা মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত তাদের মত হতভাগ্য দুনিয়াতে আর কেউ নাই। আর যারা বাবা মায়ের স্নেহ আর আর্শীবাদ পায় তাদের মত সৌভাগ্যবান কয়জন!”


অসমাপ্ত আত্মজীবনী সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:

বইটির প্রথম অংশেই ভূমিকার লেখনী দেখতে পাবেন যা বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার লেখা। এ কথা মানতেই হয়, বাবা এবং মেয়ের মধ্যে তুমুল সাদৃশ্য রয়েছে। বঙ্গবন্ধু যখন জেলে অবস্থানরত তখনই তিনি তার আত্নজীবনী লিখতে শুরু করেন। শেখ হাসিনাও যখন ভূমিকা লিখেন তখন তিনি কারা বন্দী ছিলেন।


২০০৪ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা চারটি খাতা আকস্মিকভাবে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনার হস্তগত হয়। খাতাগুলি অতি পুরানো, পাতাগুলি জীর্ণপ্রায় এবং লেখা প্রায়শ অস্পষ্ট। মূল্যবান সেই খাতাগুলি পাঠ করে জানা গেল এটি বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, যা তিনি ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে অন্তরীণ অবস্থায় লেখা শুরু করেছিলেন, কিন্তু শেষ করতে পারেননি।


জেল-জুলুম, নিগ্রহ-নিপীড়ন যাঁকে সদা তাড়া করে ফিরেছে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে উৎসর্গীকৃত-প্রাণ, সদাব্যস্ত বঙ্গবন্ধু যে আত্মজীবনী লেখায় হাত দিয়েছিলেন এবং কিছুটা লিখেছেনও, এই বইটি তার সাক্ষর বহন করছে। সবকিছু ছাপিয়ে,  বইটি পড়তে গিয়ে আপনার মনে হবে গল্পটা আসলেই অসমাপ্ত। বইটি পড়ুন, আশা করি ভাল লাগবে। আপনাদের পাঠ আনন্দময় হোক।


২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ সালে UNGA তে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ: (এটা অনেকেই দেখে নি) 


links:

অসমাপ্ত আত্মজীবনী rokomari: লিংক

অসমাপ্ত আত্মজীবনী mcq pdf

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ডাউনলোড pdf লিংক: Click here



EmoticonEmoticon