Home >> Bangla Pdf >> Bangladesh history book PDF >> তাজউদ্দীন আহমদ নেতা ও পিতা -শারমিন আহমদ Pdf Download

Tuesday, December 15, 2020

তাজউদ্দীন আহমদ নেতা ও পিতা -শারমিন আহমদ Pdf Download

বইয়ের নাম: তাজউদ্দীন আহমদ : নেতা ও পিতা
লেখকের নাম: শারমিন আহমদ
পাবলিকেশন্স: ঐতিহ্য
ক্যাটাগরি: ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব
ফাইল ফরম্যাট: Pdf(পিডিএফ), সাইজ: ১১ এম্বি,  প্রথম প্রকাশ: ২০১৪ সাল
মোট পেজ সংখ্যা: ৩৫২ পৃষ্ঠা


তাজউদ্দীন আহমদ নেতা ও পিতা -শারমিন আহমদ Pdf Download

তাজউদ্দীন আহমদ নেতা ও পিতা বই রিভিউ:

জাতীয় চার নেতার একজন হচ্ছেন তাজউদ্দীন আহমদ। নিচে উনার ছবি দেওয়া হল:

তাজউদ্দিন আহমেদ ছবি

ভাগ্যগুণে বঙ্গবন্ধু একজন তাজউদ্দীন পেয়েছিল বলেই মাত্র নয় মাসে আমাদের বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু অবর্তমানে এবং তারই নির্দেশিত পথে এদেশের স্বাধীনতা অর্জনে তাজউদ্দীনের থেকে বেশি অবদান আর কারোই ছিল না।

তাজউদ্দিন আহমেদ জন্মদিন ২৩ জুলাই, ১৯২৫ সাল। তাজউদ্দীন আহমদকে নিয়ে এ পর্যন্ত লেখা হয়েছে দুইটা বই।

  • "মূলধারা ৭১"
  • "তাজউদ্দীন আহমদ নেতা ও পিতা"
উনাকে নিয়ে ভালভাবে জানতে বই দুইটা সিরিয়ালি পর্ব এক ও পর্ব দুই -এভাবে করে পড়বেন। আর এখানে পোস্টের শেষে দুইটা বইয়ের লিংকই পাবেন।


তাজউদ্দিন আহমেদ উক্তি:

শৈশবে আব্বুকে ঘিরে আমার স্মৃতি উজ্জ্বল নীলাকাশে খণ্ড খণ্ড শারদ মেঘের মতোই ভাসমান। তিনি ছিলেন এক ব্যতিক্রমধর্মী জীবন ও সময়ের অগ্রপথিক। তাঁকে ভালোভাবে জানার আগেই তিনি চলে গেলেন পৃথিবী ছেড়ে। তিনি চলে গেলেন আমার কৈশোর ও যৌবনের সন্ধিক্ষণে। তারপরও তাঁকে আবিষ্কার করার চেষ্টা করি প্রতিনিয়ত ঐ শৈশবের স্মৃতির মেঘমালার সাথি হয়ে। তার মধ্য দিয়েই বিশ্বকে খুঁজে দেখার চেষ্টা করি, কখনো বিশ্বের অসীম রহস্যার মধ্যে খুঁজি তাঁকে।
—শারমিন আহমদ

Tajuddin ahmed neta o pita Full Pdf Book Review:

বইটি নিয়ে লেখক বলেন—

২০০৬ সালের ২ জানুয়ারি এই বইটি লেখা শুরু করেছিলাম উত্তর আমেরিকায়, যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড স্টেটের, সিলভার স্প্রিং-এর বাসভবনে। মধ্য আমেরিকার সৌন্দর্যত কোস্তারিকা রাষ্ট্রের চির সবুজ সুউচ্চ পর্বতমালার ধ্যানমগ্ন দৃশ্য, প্রশান্ত ও অতলান্তিকের অবিশ্রান্ত সংগীতময় সংলাপ এবং আকাশের সীমাহীনতায় উজ্জ্বল লাল, নীল, হলুদ, সবুজের জমকালাে রঙিন ডানা মেলা টুকান, ম্যাকও এবং অজস্র পাখির আনন্দময় আলাপচারিতার মধ্য দিয়ে এই বইটি সমাপ্তি লাভ করে ।


একটি বইয়ের জন্ম দান, বিশেষত যার জন্ম হয় হৃদয়ের প্রচণ্ড আকুতি হতে, তা যেন অনেকটা সন্তানের জন্ম দানের মতােই। একটি চিন্তার বীজ হতে সৃষ্ট হয় অজস্র কথার ডাল পালায় ঘেরা মহীরুহ সম উপাখ্যান। আবেগ, অনুভূতি, তথ্যও বিশ্লেষণের উপাদানে এক একটি শব্দ হয় সিঞ্চিত।
বাক্য মালা হয় নির্মিত। বিন্দ্ৰি নিশীথে, কলমের কালিতে, বেদনাক্লিষ্ট স্মৃতির মােড়ক যখন উন্মােচিত হয়, তখন অশ্রুর প্লাবন ছড়িয়ে পরে অজান্তেই। আবার ঐ বেদনার গভীর হতেই আবিষ্কার করি লুকায়িত মুক্তাসম জীবনদর্শন। তাত্ত্বিকভাবে সর্বজনবিদিত বিমূর্ত বােধটি বােধহয় একমাত্র মূর্ত হতে পারে বেদনার সিঞ্চনেই। ঐ বােধ নিঃশব্দে বলে যায় এ পৃথিবীতে কোনাে কিছুই আসলে চিরকালের জন্য হারিয়ে যায় না। সবই অপেক্ষমাণ এক নির্দিষ্ট সময় মিলিত হবার জন্য। আধ্যাত্মিকতা বলে দেহের মৃত্যু হতে পারে কিন্তু আত্মার মৃত্যু নেই। বিজ্ঞান বলে, জড় পদার্থের ক্ষয় হতে পারে, কিন্তু বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড ও প্রাণীকুলের মধ্যে যে শক্তি সদা বিরাজমান সেই শক্তির কোনাে ক্ষয় নেই। সেই হিসেবে প্রিয়জনের সাথে বিচ্ছেদ বেদনা সাময়িক মাত্র। সর্বজ্ঞানী স্রষ্টার অমােঘ আদেশে পৃথিবীতে মানু আসে এক একটা ভূমিকা নিয়ে। সেই ভূমিকা পালন করার পর সে চলে যেতে বাধ্য। আব্বকে কেন্দ্র করে এই বইটি লিখতে গিয়ে হৃদয়ের বেলাভূমিতে আবারাে এমনি ভাবনার তরঙ্গ এসে ঠেকেছে।


আব্লু ও আম্মার সাথে ছেলেবেলার নির্মল আনন্দঘন স্মৃতি, আব্দুর পদত্যাগ, তার পরলােক যাত্রা ইত্যাদি সম্পর্কে আমার কিশাের বয়সের একান্ত অনুভূতিগুলাে যা দিনলিপির পাতায় লিপিবদ্ধ করেছিলাম, যার অনেকখানিই ছিল অপ্রকাশিত, এতকাল পরে সেগুলােকে এই বইটির মাধ্যমে মুক্তি দিলাম। হয়তাে আজকের কিশাের ঐ দিনলিপির মধ্য দিয়ে স্পর্শ করবে এক ঐতিহাসিক সময়, কাল ও মুহূর্তকে।


বইটি সময়ানুক্রমিকভাবে শুরু করেছি ষাটের দশকের শুরুতে আমার জন্মকাল হতে এবং শেষ করেছি ১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাস আব্দুর অনন্তলােক যাত্রায়। আজকের ও আগামীর তরুণ যখন বইটি পড়বে তখন সে হয়তাে এর মধ্য খুঁজে পাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এমন এক ব্যতিক্রমধর্মী, মৌলিক চিন্তাশীল, বিস্ময়কর রকমের ন্যায়নিষ্ঠ, দুর্দান্ত রকমের সত্যপ্রিয়, দূরদৃষ্টি সম্পন্ন, নিরহংকার, আত্মপ্রচার বিমুখ ও স্বাধীন চেতা মানুষকে যার নির্মল জীবনাদর্শকে অনুসরণের মধ্যে শান্তি ও ন্যায়ের সুকঠিন পথটি নির্মাণ করা সম্ভব। বাংলাদেশ একদিন তার নিজস্ব প্রয়ােজনেই খুঁজে বের করবে তাজউদ্দীন আহমদকে। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে গাজীপুরবাসীদের তাজউদ্দীন আহমদকে দেওয়া বঙ্গতাজ উপাধিটি নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেবে এক নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমিকের সুদক্ষ নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জনের অমর ইতিহাস।


তাজউদ্দীন আহমদ নেতা ও পিতা, এই বইটির বীজ প্রথিত হয় ১৯৭৯ সালে। সাপ্তাহিক সচিত্র সন্ধানী ম্যাগাজিনের ডিসেম্বরের বিজয় দিবস সংখ্যায় “তাজউদ্দীন নেতা না পিতা” নামে আব্দুর
জীবন ও কর্মের ওপর স্মৃতিচারণমূলক প্রবন্ধটি সাংবাদিক ও নারী নেত্রী মালেকা বেগম যত্নের সাথে ছাপিয়ে দিয়েছিলেন। লেখাটি প্রকাশিত হবার চার বছর চার মাস পর আমি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাই।
সুদূর প্রবাসের দ্রুতগামী জীবনের বৈচিত্র্যপূর্ণ অধ্যায়গুলাে অতিক্রমের পাশাপাশি আব্দুকে কেন্দ্র করে লিপিবদ্ধ করি নানাবিধ ঘটনা ও তথ্য। ১৯৮৭ সালের গ্রীষ্মকালে ঢাকায় এসে আব্দুর জন্মভূমি আমার প্রিয় দরদরিয়া গ্রামে আব্দুর শৈশব, ছাত্র জীবন ও আমাদের পিতৃকুলের ইতিহাস সংগ্রহর পাশাপাশি জেল হত্যাকাণ্ডর ওপর তথ্য ও সাক্ষাঙ্কার সংগ্রহর কাজও শুরু করি। কারণ তখন পর্যন্ত চার জাতীয় নেতাকে কারাগারে কারা হত্যা করেছিল এবং কীভাবে এই জেল হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলাে সে সম্পর্কে তথ্য ও সাক্ষাৎকারভিত্তিক লেখা আমার জানা মতে প্রকাশিত হয়নি। জেল হত্যা তদন্ত কমিশনের সাবেক সদস্য বিচারপতি কে.এম সােবহান, চার জাতীয় নেতার সাথে ১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাসে জেলে বন্দী আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এ.এস.এম মহসীন বুলবুল, ব্রিগেডিয়ার আমিনুল হক বীর উত্তম (মেজর জেনারেল খালেদ মােশাররফের নির্দেশে যিনি জেল হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী তৎকালীন ডিআইজি প্রিজন্স আব্দুল আউয়াল ও জেলার আমিনুর রহমানের সাক্ষাৎকার রেকর্ড করেন) জেল হত্যার মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হােসেন, অ্যাডভােকেট বারী প্রমুখের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে রচিত হয় “৩ নভেম্বরের জেল হত্যা ও বিবেকের আত্মাহুতি” প্রবন্ধটি। অন্যান্য যাদের সাথে জেল হত্যা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য যােগাযােগ করেছিলাম তারা সেসময় সে বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।


এছাড়াও আব্দুর ছাত্র ও রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক ও খাদ্যমন্ত্রী আব্দুল মােমেনের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করি। কোলকাতায় ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত বাহিনী প্রধান গােলােক মজুমদার ও বিএসএফের নিরাপত্তা অফিসার শরদিন্দু চট্টোপাধ্যায়ের সাথে দেখা করি এবং তাদের কাছ থেকেও মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের তথ্য লাভ করি।
১৯৮৮ সালের নভেম্বর মাসে জেল হত্যা দিবসে নিউইয়র্ক হতে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নিয়মিত সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা প্রবাসীতে “৩ নভেম্বরের জেল হত্যা ও বিবেকের আত্মাহুতি” প্রবন্ধটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে ঢাকা ও যুক্তরাষ্ট্রর অন্যান্য বাংলা পত্রিকায়। আমার জানামতে জেল হত্যার ওপর ঐ প্রবন্ধটি ছিল প্রথম সাক্ষাৎকারভিত্তিক গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ।পরবর্তীতে নব্বই দশকের প্রথমার্ধে ছােটবােন সিমিন হােসেন রিমি জেল হত্যাকাণ্ডর প্রত্যক্ষদর্শী যেসব জেল কর্মকর্তারা অবসর গ্রহণ করেছিলেন তাদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের কাজ শুরু করে। জেল হত্যার ওপর সাক্ষাঙ্কারগুলাে ১৯৯৩-৯৪ সালে দৈনিক ভােরের কাগজে প্রকাশিত হয় এবং ২০০১ সালে রিমির লেখা জনপ্রিয় স্মৃতি কথা “আমার ছােটবেলা ১৯৭১ এবং বাবা তাজউদ্দীন আহমদ” এ অন্তর্ভুক্ত হয়। জেল হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে অজানা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, আব্দুর ডায়েরি, ভাষণ, চিঠিপত্র এবং তার বন্ধু ও সহকর্মীদের সাক্ষাঙ্কার সংগ্রহ ও বিভিন্ন বইয়ের মাধ্যমে তা প্রকাশ করে আব্দুর জীবন, কর্ম ও আদর্শ সমন্ধে জানতে রিমি যুগান্তকারী এবং ঐতিহাসিক অবদান রেখেছে। এই বইটি লিখতে গিয়ে বাল্য-কৈশােরের ঐতিহাসিক ঘটনাবলি যা আমরা একত্রে প্রত্যক্ষ করেছিলাম প্রয়ােজন অনুসারে তার কিছু অংশের
পুনরােল্লেখ করেছি আমার নিজস্ব অভিব্যক্তির মাধ্যমে। রিমির প্রকাশিত বইয়ের তথ্যাবলি এবং টাইপ সেটিঙের কাজে সহায়তা আমাকে ব্যাপকভাবে সাহায্য করেছে যার জন্য রিমিকে অফুরন্ত ধন্যবাদ।



হাতে লেখা বইটির প্রাথমিক সম্পাদনা ও টাইপ সেটিঙের কাজ রিমির অনুরােধে ইমাম হােসেন সাহেব যত্নের সাথে করেন। আমি হাতে লিখে একটি করে চ্যাপটার শেষ করছিলাম এবং তা টাইপ করা হচ্ছিল। পরবর্তীতে রিমির প্রকাশনা কর্মের সহযােগী রাশেদুর রহমান তারা কম্পােজের দায়িত্ব।
নেন। বাকি টাইপ সেটিঙের কাজটি নিজ উদ্যোগে ক্যানাডা প্রবাসী অশীতিপর তরুণ অ্যালবার্ট সুকুমার মণ্ডল অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এবং অতি দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করে তাক লাগিয়ে দেন। এর জন্য তিনি কোনাে পারিশ্রমিক নিতে অস্বীকার করেন যা আমাকে অভিভূত করে। আমার এই বইটি পড়ে তিনি উচ্ছসিত হয়ে বইটি শীঘ্র প্রকাশ করার জন্য উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা যােগান। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে যখন ঢাকায় আম্মাকে দেখতে যাই তখন কনিষ্ঠতম বােন মাহজাবীন আহমদ মিমি, যে এই বইটি প্রকাশের ব্যাপারে আন্তরিকভাবে সহযােগিতা করেছে, সে স্বউদ্যোগে এবং অত্যন্ত উৎসাহ ও আগ্রহের সাথে আমাকে প্রকাশনা সংস্থা ঐতিহ্যর প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমান নাইমের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। নাইম বইটি প্রকাশের বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং সর্বোতভাবে সহযােগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। মামাতাে বােন রােকসানা ওয়াদুদ (মুন্নী) আপার স্বামী ওয়াদুদ চৌধুরী প্রকাশকের সাথে যােগাযােগ রক্ষা করেন এবং এই বইটি প্রকাশের ব্যাপারে আমাকে উৎসাহ যােগান। ঐতিহ্যের কম্পিউটার বিভাগের মাে. জহিরুল ইসলাম ধৈর্য ও নিষ্ঠার সাথে আমার হাতে লেখা সাক্ষাৎকারের ট্রান্সক্রাইব, অজস্র সংশােধন, পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জনাকে টাইপে মূর্ত

করে তােলেন। বানান সংশােধন করেছেন ঐতিহ্যর প্রুফ সেকশনের সুরুজ্জামান সাহেব। প্রচ্ছদ করেছেন এ আর নাইম। তাদের সবাইকে আমার প্রাণঢালা ধন্যবাদ।



একটি বই লেখার জন্য শব্দ চয়ন ও তথ্য সংগ্ৰহর মতােই জরুরি সেই লেখার সময়কার পরিবেশ, পরিস্থিতি, উৎসাহ, অনুপ্রেরণা, সমর্থন ও সহযােগিতা। এই বইটি লেখার সময় বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও দেশের মানুষের যে অকুণ্ঠ অনুপ্রেরণা ও সহযােগিতা লাভ করেছি তা আমার জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে। অনেকেরই বাংলাদেশের সাথে প্রথম পরিচয় আমার মাধ্যমে। ভিন্ন ভাষা ও জাতি হওয়া সত্ত্বেও এবং বাংলাদেশের সাথে তাদের কোনাে প্রকার যােগাযােগ না থাকলেও তারা
নিঃস্বার্থভাবে যুগিয়েছে উৎসাহ, অনুপ্রেরণা ও সহযােগিতা। একটি জাতির উন্নতির বৈশিষ্ট্য হলাে যখন সেই জাতি তার নিজস্ব গণ্ডি অতিক্রম করে, ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে অপরের ভালাে কাজকে সমর্থন করতে পারে এবং নতুন চিন্তা, আদর্শ, মানুষ ও ইতিহাস সমন্ধে জানতে আগ্রহী হয়। যে জাতির মধ্য নিজ ক্ষুদ্র স্বার্থ ও পরিচিত গণ্ডির বাইরে কোনাে কিছু জানার আগ্রহ নেই সেই জাতি তাে মৃতপ্রায়।
আব্দুর মধ্যে যে বিশ্বজনীন এবং নিঃস্বার্থ চিন্তা-চেতনা বিরাজমান ছিল তারা যেন এই বইটির সেতু দিয়ে নতুন করে সংযােগ স্থাপন করল এই বৈচিত্র্যময় পৃথিবীর বিভিন্ন জাতির মানুষের সাথে। এই বই লেখার মধ্য দিয়ে আমিও যেন শুরু করলাম নতুন পথে যাত্রা। যার শেষ কোথায়, কখন এবং কীভাবে হবে নিজেও জানতাম না।

বই লেখার শুরুতে ফুফাতাে বােন আনােয়ারা খাতুন (আনার আপা) ষাট দশকের রাজনৈতিক আবহাওয়া সম্পর্কে এবং মামাতাে বােন লায়লা ম্যাকারথি, সৈয়দা এরফানা এবং নাসরিন রােকসানা বানু মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তাদের পরিবার এবং কর্মকাণ্ডর মূল্যবান কিছু তথ্য আমাকে দেন। আমাদের পরিবারের একান্ত আপনজন আবু আহসান (হাসান ভাই) ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে ওনার কাছে আমাদের দরদরিয়া গ্রাম হতে আম্মার হাতে লেখা চিঠির কপি দেন। বইটির প্রতি চ্যাপ্টারের শুরুতে কোটেশন যােগ করার আইডিয়াটি দিয়েছে বন্ধু সুজান ক্রেইগ। সৈয়দা সামিনা মির্জা মিম্মাে ও ফাতেমা হক লনি বইটি লেখা চলাকালেই সমাপ্ত অংশগুলাে আগ্রহের সাথে পড়ে তাদের মূল্যবান মতামত দিয়েছে। বারনাডেট পুস যুক্তরাষ্ট্র হতে কোস্তারিকায় যােগান দিয়েছে আউট অফ প্রিন্ট দুষ্প্রাপ্য কিছু বই এবং অধ্যাপক ড. আহমেদ আবদুল্লাহ জামাল নিজ উদ্যোগে আরও কিছু তথ্য দিয়েছেন। 


প্যাটরিশিয়া ওয়েলস যে আমার প্রথম বই দ্বিভাষিক হৃদয়ে রংধনু- দ্যা রেইনবাে ইন অ্যা হার্ট কে উপহারস্বরূপ প্রতিবারই তুলে দিয়েছে নবজাতক শিশু ও তাদের বাবামায়ের হাতে, সে একই উৎসাহ নিয়ে অনেক দূর থেকে ড্রাইভ করে এসে আমার ফুল ও প্রজাপতি আঁকা সাদা লেখার টেবিলের সাথে আমার একগুচ্ছ ছবি তুলে আমাকে অবাক করে দেয়। তার উক্তি যে এই টেবিলটি একটি অসামান্য বাবার সম্পর্কে তাঁর মেয়ের লেখার ঐতিহাসিক সাক্ষী আমার চোখে পানি এনে দেয় এবং এক অদ্ভুত প্রেরণা যােগায়। এলিজাবেথ রেগান পাতার পর পাতা পুরাতন সব নথিপত্র ও লেখনীকে যত্নের সাথে ফটোকপি করে দেয়। তরুণ দম্পতি ফাহিন আরেফিন ইভান ও সামিরা মেহরাজ প্রাযুক্তিক সহযােগিতা প্রদান করে নিষ্ঠা সহকারে। অধ্যাপক ড. মীজান রহমান যিনি তাজউদ্দীন আহমদ সমন্ধে লিখেছেন অসামান্য প্রবন্ধমালা এবং আমার অনুরােধে আব্দু সম্বন্ধে নির্মিত ওয়েবসাইটটির জন্য বাংলা সাক্ষাৎকারগুলাে হতে ইংরেজিতে চমৎকার অনুবাদ করে দিয়েছেন। তার কাছ থেকে বাংলা অভ্র ফন্টের সন্ধান পাই। যার ফলে হাতে লেখা বইটির বাকি পরিমার্জন, পরিবর্ধন এবং এই ভূমিকা লেখার কাজটি অভ্র ফন্টের টাইপে অপেক্ষাকৃত দ্রুত সম্পন্ন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রাক্তন কর্মকর্তা স্টেফেন স্নাে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার তথ্য সংগ্রহে।


সহযােগিতা করেন আন্তরিকতার সাথে। মুক্তিযােদ্ধা যারা মুক্তিযুদ্ধ কালের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, উপাত্ত ও সাক্ষাৎকার দেন তারা হলেন টেক্সাস হতে মাহবুবুর রহমান জালাল যিনি ওনার নিজস্ব আর্কাইভে
সংগ্রহকৃত মুক্তিযুদ্ধের সময়কার কংগ্রেশনাল রেকর্ড, ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউর প্রছদে আব্দুর ছবি এবং বিভিন্ন মূল্যবান উপাত্ত দেন অকুণ্ঠ চিত্তে। নিউইয়র্ক প্রবাসী আবুল মনসুর খান, ফ্লোরিডা ও টনটো হতে ফজলুর রহমান ও মাহফুজুল বারী (আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় আসামী হিসেবে অভিযুক্ত ছিলেন) মুক্তিযুদ্ধর সময়ের উল্লেখযােগ্য তথ্য দেন। টরনটোবাসী কবি দেলােয়ার এলাহী
আমাকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী, সুরকার ও গীতিকারদের নাম আন্তরিকতার সাথে সরবরাহ করেন। এদের সকলের প্রতি আমার অজস্র ধন্যবাদ রইল।
এই বইটি লেখার সময় আরও যারা আমাকে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে তারা হলেন- আন্দ্রেয়া মারিয়াম যুনিগা ব্রেনেস, আরিফা আহমেদ, এমি ক্র্যাফট, উম্মে কুলসুম রুবী, কানিজ ফাতেমা রহমান সুমি, ক্যারেন ম্যাক্লেইন, নাতালিয়া মারেনকো, বেভারলি ব্রিটন, ড. মাহবুব উদ্দীন, শ্যারন মিহারেজ ও সৈয়দা সাফিনাজ রুপা সবার প্রতি রইল আন্তরিক ধন্যবাদ।
আব্দুর জীবন ও পারিবারিক ইতিহাস সম্পর্কে বড় ফুফু সুফিয়া খাতুন, ছােট কাকু আফসারউদ্দীন আহমদ ও চাচাতাে ভাই দলিলউদ্দীন আহমদ মূল্যবান তথ্য ও সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। আম্মার পারিবারিক ইতিহাস সংগ্রহ করেছি নানা সৈয়দ সেরাজুল হক, ছােট মামা সৈয়দ গােলাম মওলা, আম্মার মামাতাে বােন সৈয়দা রােকেয়া বেগম ও চাচাতাে ভাই সৈয়দ আনওয়ার হােসেনের কাছ থেকে। এছাড়াও আব্দু ও আম্মার পরিবার সম্পর্কে, আব্দুর রাজনৈতিক জীবন, কর্ম, জেল হত্যা, বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে আম্মা, ভাইবােন, আত্মীয়-স্বজন, আব্দুর শিক্ষক, বন্ধু, সহকর্মী, গ্রামের প্রতিবেশী, সাংবাদিক, অধ্যাপক, মুক্তিযােদ্ধা এবং বিভিন্ন পেশা ও কর্মের সাথে জড়িত যারা আমার লেখার জন্য তাদের মূল্যবান সময়, তথ্য ও সাক্ষাৎকার দিয়েছেন এবং যাদের নাম পারিবারিক ইতিহাস, সাক্ষাঙ্কার ও বইয়ের অন্যান্য অনুচ্ছেদে উল্লেখিত হয়েছে ও বইটির সাথে যারা প্রত্যক্ষ এবং পরােক্ষভাবে জড়িত থেকেছেন তাদের সবাইকে আমার সুগভীর ধন্যবাদ।


সর্বশেষে কিন্তু কোনােক্রমেই শেষ নয়, আমার স্বামী ড. আমর খাইরি আব্দাল্লা ও পুত্র তাজ ইমান আহমেদ ইবনে মুনির এই দুই প্রিয় মানুষ আমার বই লেখার উদ্যমে জুগিয়েছে অনাবিল প্রেরণা ও অকুণ্ঠ সহযােগিতা। আদরের পুত্রবধূ প্রিয়াংকা সেরনিয়াবাত তাজ বিন্‌ত আবুল খায়ের পরিবারে নতুন হয়েও আমার লেখার সাথে একাত্ম হয়েছে এবং সমর্থন যুগিয়েছে। স্নেহভাজন ছােট ভাই তানজিম আহমদ সােহেল বাবা ও মায়ের আদর্শকে সমুন্নত রেখে, অন্যায়ের সাথে আপস না করে,
রাজনীতিতে তার যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখেছে সেটিও এই বই লেখাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আমর, তাজ, প্রিয়াংকা ও সােহেল তােমাদেরকে আমার প্রাণঢালা ধন্যবাদ।

আম্মা, এই বইটির যাত্রা শুরু হয়েছিল আপনার অনাবিল ভালােবাসায় এবং শেষ হলাে আপনার অনন্ত প্রেরণায়। আমার হৃদয়ের অন্তঃস্তল হতে আপনাকে ধন্যবাদ ও অভিবাদন।


তাজউদ্দিন আহমেদের বই নেতা ও পিতা বই ডাউনলোড করুন:-
Tajuddin ahmed neta o pita pdf free download


আরও দেখুন:-



EmoticonEmoticon