নৌকাডুবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর pdf download

নৌকাডুবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর pdf download


বইয়ের নাম: নৌকাডুবি (noukadubi)

লেখকের নাম: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ধরণঃ বাংলা (Bangla/Bengali)

ক্যাটাগরি:  উপন্যাস

ফাইল ফরম্যাট: Pdf free Download(পিডিএফ)

ফাইল সাইজ: 3 মেগাবাইট

প্রকাশনী: বিশ্বসাহিত্য ভবন 

প্রকাশঃ ২০১৭ সাল

মোট পেজ সংখ্যাঃ ২২৬ টি পৃষ্ঠা

নৌকাডুবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর pdf download


নৌকাডুবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সংক্ষেপ:

রবিঠাকুরের প্রায় রচনার মধ্যে একরকমের পরাবাস্তবতা কাজ করে, এটিও তার ব্যতিক্রম নয়। নৌকাডুবি রবীন্দ্রনাথের একটি উপন্যাস। উপন্যাসটি পড়ার আগে আমি ঝতুপর্ণা ঘোষের পরিচালনায় এই উপন্যাসের ছায়া অবলম্বনে নির্মিত নৌকাডুবি মুভিটা দেখেছি। কাহিনীর মূলভাব ও প্রধান চরিত্রগুলির নাম ঠিক রেখে এই ছবি রবীন্দ্রনাথের উপন্যাস থেকে অনেকটাই সরে এসেছে।
যাইহোক এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য মানব মানবীর প্রেম, মানুষের সম্পর্কের জটিল সমীকরণ, মানুষের মনোজগতের জটিল গতিবিধি বর্ণনা। এককথায়, তার রচনার চিরায়ত নিয়ম মেনেই রচিত হয়েছে এই উপন্যাসটি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নৌকাডুবি উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র রমেশ। পেশায় একজন আইনজীবী।হেমালিনীর সাথে তার ভাষাহীন অব্যক্ত প্রণয় যা দুদিক থেকেই অপ্রকাশিত। হৃদয়ঘটিত এরকম জটিল সমীকরণের মধ্যে দিয়ে জীবনের কোন না কোন সময় সকল মানম মানবীকেই যেতে হয়। দুটি হৃদয়ের এই অপ্রকাশিত প্রেমের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়টি রবি ঠাকুর আমাদের জানিয়েছেন রমেশ আর হেমালিনীর চরিত্রের মাধ্যমে। অন্যদিকে রমেশ তার পিতার কঠিন শাসনের চাপে অন্যত্র এক মেয়েকে বিবাহ করতে বাধ্য হয়। নববধূ নিয়ে ফেরার পথে ঘটে নৌকাডুবি। নৌকাডুবির পর রমেশ নিজেকে আবিষ্কার করে একটি দ্বীপে, পাশে একটি মেয়েসহ।মেয়েটির নাম কমলা কিন্তু রমেশ বিবাহ করে সুশীলাকে। বিবাহ আসরে নতুন বৌয়ের মুখ ভালো করে দেখেনি বলে এই মেয়েকেই ভেবে বসে স্ত্রী।দৈবক্রমে এই মেয়েটিরও একই রাত্রে বিবাহ হয়েছিল, সেও তার বরযাত্রীদের সাথে ফিরছিল।কমলার বর ছিল নলীনাক্ষ ডাক্তার। সলজ্জ কমলাও বিবাহ আসরে লজ্জায় নলীনাক্ষের মুখ দেখেনি, তাই সে নির্জনদ্বীপে রমেশের সাথে নিজেকে আবিষ্কারের পর রমেশকেই স্বামী হিসেবে ভাবতে শুরু করে। রমেশ কমলাকে সুশীলা বলে ডাকলে কমলা জানায় যে, তার নাম সুশীলা নয়। তখনই রমেশ বুঝতে পারে যে, এই কমলা তার স্ত্রী নয়। দোটানায় পড়ে রমেশ।না সে কমলাকে কাছে রাখতে পারছে না সে হেমালিনীকে বিয়ে করতে পারছে। এদিকে হেম ও রমেশের বিরহে কাতর হয়ে পড়ে। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে নলীনাক্ষের সাথে কমলার মিলন হয়, কিন্তু হেমের সাথে রমেশের শেষ পর্যন্ত বিয়েটা হয়েছিল কিনা উপন্যাস সে সম্পর্কে নীরব।

এই উপন্যাসের একটা জিনিস আমার ভালো লাগেনি, উপন্যাসের শেষের দিকে ঘটনাচক্রে কমলা তার স্বামী নলীনাক্ষের গৃহে অবস্থান করে, তখন সে গোপনে স্বামীর খড়মজোড়া মাথায় নিয়ে সম্মান প্রদর্শন করে। কেন? স্বামীকে সম্মান আর ভালোবাসা দেখাতে জুতা কেন মাথায় নিতে হবে?
এ ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথকে নারীবিদ্বেষী বলব না প্রেমবাদী বলব সে বিষয়ে আমি সন্দিহান।
যাইহোক, ঔপন্যাসিক তার সময়ের সমাজের বাস্তবতা নিয়ে আসছেন তাই হয়তো ঐ ঘটনার উল্লেখ করেছেন।
আমি ভাবতাম জীবনের সব অনুভূতিকে হয়তো ভাষায় রূপ দেওয়া যায় না, কিন্তু রবিঠাকুর চমৎকার ভাবে জীবনের সকল জটিল অনূভুতি গুলোকে উপস্থাপন করে গেছেন এই উপন্যাসটিতে। এই বইটি পড়তে পড়তে একসময় মনে হয় রবীন্দ্রনাথ তাঁর সময়কার যুগ পেরিয়ে উত্তরাধুনিক যুগের মানুষের হৃদয় বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হয়েছেন।


বইটি রচনার সময় রবি ঠাকুর বলেন- 

পাঠক যে ভার নিলে সংগত হয় লেখকের প্রতি সে ভার দেওয়া চলে না। নিজের রচনা উপলক্ষে আত্মবিশ্লেষণ শশাভন হয় না। তাকে অন্যায় বলা যায় এইজন্যে যে, নিতান্ত নৈর্ব্যক্তিক ভাবে এ কাজ করা অসম্ভব- এইজন্য নিষ্কাম বিচারের লাইন ঠিক থাকে না। প্রকাশক জানতে চেয়েছেন নৌকাডুবি লিখতে গেলুম কী জন্যে। এ-সব কথা দেবা ন জানন্তি কুততা মনুষ্যাঃ।

বাইরের খবরটা দেওয়া যেতে পারে, সে হল প্রকাশকের তাগিদ। উৎসটা গভীর ভিতরে, গােমুখী তাে উৎস নয়। প্রকাশকের ফরমাশকে প্রেরণা বললে বেশি বলা হয়। অথচ তা ছাড়া

বলব কী? গল্পটায় পেয়ে-বসা আর প্রকাশকে পেয়ে-বসা সম্পূর্ণ আলাদা কথা। বলা বাহুল্য ভিতরের দিকে গল্পের তাড়া ছিল না। গল্প লেখার পেয়াদা যখন দরজা ছাড়ে না তখন দায়ে

পড়ে ভাবতে হল কী লিখি। সময়ের দাবি বদলে গেছে। একালে গল্পের কৌতূহলটা হয়ে উঠেছে মনােবিকলনমূলক। ঘটনা-গ্রন্থন হয়ে পড়েছে গৌণ। তাই অস্বাভাবিক অবস্থায় মনের

রহস্য সন্ধান করে নায়ক-নায়িকার জীবনে প্রকাণ্ড একটা ভুলের দম লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল—অত্যন্ত নিষ্ঠুর কিন্তু ঔৎসুক্যজনক। এর চরম সাইকলজির প্রশ্ন হচ্ছে এই যে,

স্বামীর সম্বন্ধের নিত্যতা নিয়ে যে সংস্কার আমাদের দেশের সাধারণ মেয়েদের মনে আছে তার মূল এত গভীর কি না যাতে অজ্ঞানজনিত প্রথম ভালােবাসার জালকে ধিক্কারের সঙ্গে সে ছিন করতে পারে। কিন্তু এসব প্রশ্নের সর্বজনীন উত্তর সম্ভব নয়। কোনাে একজন বিশেষ মেয়ের মনে সমাজের চিরকালীন সংস্কার দুর্নিবাররূপে এমন প্রবল হওয়া অসম্ভব নয় যাতে অপরিচিত স্বামীর সংবাদমাত্রেই সকল বন্ধন ছিড়ে তার দিকে ছুটে যেতে পারে। বন্ধনটা এবং সংস্কারটা দুই সমান দৃঢ় হয়ে যদি নারীর মনে শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের অস্ত্র-চালাচালি চলত তা হলে গল্পের নাটকীয়তা হতে পারত সুতীব্র, মনে চিরকালের মতাে দেগে দিত তার ট্র্যাজিক শশাচনীয়তার ক্ষতচিহ্ন। ট্র্যাজেডির সর্বপ্রধান বাহন হয়ে রইল হতভাগ্য রমেশ—তার দুঃখকরতা প্রতিমুখী মনােভাবের বিরুদ্ধতা নিয়ে তেমন নয় যেমন ঘটনাজালের দুর্মোচ্য জটিলতা নিয়ে। এই কারণে বিচারক যদি রচয়িতাকে অপরাধী করেন আমি উত্তর দেব না।

কেবল বলব গল্পের মধ্যে যে অংশে বর্ণনায় এবং বেদনায় কবিত্বের স্পর্শ লেগেছে সেটাতে যদি রসের অপচয় না ঘটে থাকে তা হলে সমস্ত নৌকাডুবি থেকে সেই অংশে হয়তাে কবির খ্যাতি কিছু কিছু বাচিয়ে রাখতে পারে। কিন্তু এও অসংকোচে বলতে পারি নে, কেননা রুচির দ্রুত পরিবর্তন চলেছে।

Noukadubi Rabindranath Tagore  Pdf Free Download link: Click Here

Previous Post
Next Post

post written by:

0 Comments: